বাংলা সাহিত্যের ধারা যদি পর্যবেক্ষণ করা যায়, তবে দেখা যাবে এর সবচেয়ে শক্তিশালী সৃষ্টিগুলো কিন্তু চিৎকার করে কিছু বলেনি। বরং একধরনের নম্র আত্মসংযম এবং প্রচ্ছন্ন রূপাতুরতা এর মূল চরিত্র।

মঙ্গলকাব্যের দেবী চরিত্র থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের কবিতা পর্যন্ত — কোথাও এক রহস্যময় আড়াল জড়িয়ে রয়েছে।

জীবনানন্দ দাশ যখন বলেন — *“চোখ তার কবেকার পাখির নীড়ের মতো নদী...”* কিংবা *“হায় চিল, সোনালী ডানার চিল”*, তখন সেই রুপোলি ডানার আড়ালে লুকিয়ে থাকে গভীর এক নির্জনতা। এই নির্জনতা আমাদের চমকে দেয় না, কিন্তু স্তব্ধ করে দেয়।

শিল্পের শক্তি তার প্রদর্শনীতে নয়, তার গভীরতায়।

আধুনিক অনলাইন যুগে যখন সবকিছু খুব চকচকে, দ্রুত এবং বাণিজ্যিক হয়ে উঠেছে, তখন একজন লেখকের দায়িত্ব হলো ধীরগতির এক আশ্রম তৈরি করা। যেখানে লেখা পড়া হবে চা-খাওয়ার মতো শান্তিতে, যেখানে প্রতিটি বাক্য মনে করিয়ে দেবে কাগজের স্পর্শ আর কালির সৌরভ।

স্বল্পোন্মোচিতা সেই প্রয়াসেই বিশ্বাস করে।