আমরা সারাদিন প্রচুর কথা বলি। মোবাইলের পর্দায়, চায়ের কাপে, অফিসে কিংবা রাস্তায়। কিন্তু এই অজস্র শব্দের স্রোতে আসল কথাটা কোথায় যেন হারিয়ে যায়।

কখনো কি ভেবে দেখেছেন, দুটি শব্দের মাঝখানের নীরবতাটুকু কতখানি বাচাল?

রবীন্দ্রনাথ যখন লেখেন — *“মরণ রে, তুহুঁ মম শ্যামসমান”*, তখন 'মরণ' আর 'শ্যাম'-এর মাঝখানে যে একটি পরম সমর্পণের শূন্যতা তৈরি হয়, সেটিই তো শিল্প।

স্বল্পোন্মোচিতা শব্দের অর্থ আমি বুঝি এটাই: যা পুরোপুরি উদোম নয়, আবার যা সম্পূর্ণ গোপনও নয়। অনেকটা যেমন গোধূলির আলো। সেখানে সূর্য ডুবে গেছে, কিন্তু রাত এখনো নামেনি। এক অনির্দেশ্য ছায়াঢাকা প্রান্তর, যেখানে প্রতিটি মানুষের নিজস্ব কল্পনা চলাফেরা করতে পারে।

লেখক যদি পাঠকের জন্য সবটা ভেবে দেন, তবে পাঠকের স্বাধীনতা কোথায় রইল? সাহিত্য তো কেবল কোনো তথ্য পরিবেশন নয়, সাহিত্য হলো একটি খোলা জানালা। লেখক জানালার কপাটটুকু সামান্য ফাঁক করে দেন মাত্র, বাকি আকাশ দেখার দায়িত্ব পাঠকের নিজের।

আজকের এই দ্রুতগামী দুনিয়ায় আমরা হয়তো একটু বেশিই প্রকাশ করে ফেলি। সবকিছু স্ট্যাটাস, ফটো আর ভিভিড রঙে রাঙিয়ে দিতে চাই। কিন্তু কিছু জিনিস অনুচ্চারিত থাকলেই কি বেশি সুন্দর হতো না?