নভঃ চন্দ্রাতপ বেশে মসিকৃষ্ণ জলদরাশি-
উপস্থিত আজি পৃথিবীর সৌহার্দ্য আমন্ত্রণে।
ছড়িয়ে রয়েছে তারা ধরণীর বিস্তৃত বক্ষ জুড়ে ,
ছুটিয়া আসিছে আলিঙ্গনে জড়াতে দীর্ঘপিয়াসী ভূমিরে।
গুরুগর্জন রবে আগমনী বার্তা সাড়া ফেলিছে চারিদিকে,
নামিবে বর্ষণ ধরায় এখনি সঁপিতে নিজেকে প্রেয়সী কাছে ;
এ বার্তা পেয়ে উড্ডীন পক্ষীকূল সত্বর ফিরিছে নীড়ে ,
দেখিতে প্রকৃতির মায়াবী অন্বয় আকুল তৃষাতুর নয়নে।
অবশেষে ঝরঝর ধ্বনিতে ঝরিল বারিধারা দীর্ঘ প্রতিক্ষান্তে ,
বাহুপাশে বাঁধি পরম আশ্লেষে চুমিল মৃত্তিকার সর্বাঙ্গে।
বৃষ্টি উজাড় করিল প্রণয়সুধা ,
সঞ্চয় করেছে যা বহুকাল ধরে -
মোচিত হল মাটির বিরহজ্বালা সোহাগের শীতল স্পর্শে।
প্রেমতৃপ্ত ভূমি নীরসিক্ত হয়ে সুরভিত করে বায়ে,
বিহগ-বিহগীও প্রেমাসঙ্গবদ্ধ এ আর্দ্র সুগন্ধের আবেশে।

কোনো এক মানবী অবিদিত এই মহামিলন হতে-
পুষ্পবাগে বর্ষণধারায় করিছে ক্রীড়া আপন মনে।
হরিদ্রাভ মধুমক্ষিকাসম সে পীতাম্বরী ধায় কুঞ্জে কুঞ্জে,
কৃত্রিম সাজ ব্যতিরেকেই সে উষসী প্রকৃতির নিখাদ সাজে।
তার সকল আবল্য ঘোচালো সমীরণ নিজ নির্মল স্পর্শে,
বহুরঙ্গী কুসুমরাশি সব ম্লানিমা মুছায়ে করিল বরণ তারে।
নীরকণা ঝরিল শিরোপরে তার বিধাতার আশীষ হয়ে,
পুষ্পলতা তারে পরম অনুরাগে জরালো আপন ডোরে।
তার কপোল-অধর আর্দ্র হল পবনাম্বুর স্নেহ পরশে ,
অঞ্চল লুটায় তার সিক্ত তৃণে,
চিত্ত উদ্বেলিত হরষে।
সহসা তুফান উঠিল জোরে,
তবু অবিচল সে
মুছে গেছে তার সকল কুন্ঠা, প্রকৃতির প্রেমাচ্ছন্নে।
নব্য অতিথি রূপে অভিষিক্ত হল সে এই চারুদ্যানে,
নবজন্ম যেন হল তার আজি এ মঙ্গলক্ষণে।।